Amar Gram: Smart Platform: অ্যাপটি ইনস্টল করুন এবং গ্রামের সাথে সংযুক্ত থাকুন। 🌟Install now 

কবিতা/গ্রাম নিয়ে কবিতা/দুই বিঘা জমি
কবিতাগ্রাম নিয়ে কবিতাপূর্ণ পাঠ আছে

দুই বিঘা জমি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর • ১৮৯৬

কৃষকের জমির প্রতি ভালোবাসা, জমি হারানোর বেদনা আর শেকড়ছেঁড়া জীবনের কষ্ট এই কবিতার কেন্দ্র।

কবিতার সারকথা

কেন পড়বেন

  • জমি আর জীবনের সম্পর্ক স্পষ্ট করে
  • গ্রামীণ বেদনার শক্তিশালী প্রতীক তৈরি করে
  • বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পরিচিত গ্রামীণ কবিতা

ইন্টারনেট তথ্য

সংক্ষিপ্ত নোট

Banglapedia-তে রবীন্দ্রনাথের Sriniketan-ভিত্তিক rural development কাজের কথা উল্লেখ আছে।

কবিতাটি কৃষকের জমির প্রতি টান ও জমি হারানোর যন্ত্রণা নিয়ে বহুল আলোচিত।

দুই বিঘা জমি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর • ১৮৯৬

শুধু বিঘে দুই ছিল মোর ভুঁই, আর সবি গেছে ঋণে।

বাবু বলিলেন “বুঝেছ উপেন, এ জমি লইব কিনে।”

কহিলাম আমি “তুমি ভূস্বামী, ভূমির অন্ত নাই।

চেয়ে দেখ মোর আছে বড়জোর মরিবার মত ঠাঁই।”

শুনি রাজা কহে “বাপু, জানত হে, করেছি বাগানখানা,

পেলে দুই বিঘে প্রস্থে ও দীঘে সমান হইবে টানা,—

পুড়িয়া ফেল সবে চতুষ্পদ পাখি, দোয়েল, শ্যাম, কাক,

চিরিয়া পুষিয়া করিব এ বাগানে কুহুতানে বাক।”

পরে মাস দেড়ে ভিটেমাটি ছেড়ে বাহির হইনু পথে-

করিল ডিক্রি, সকলি বিক্রি মিথ্যা দেনার খতে।

এ জগতে, হায়, সেই বেশি চায় আছে যার ভুরি ভুরি!

রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি!

মনে ভাবিলাম মোরে ভগবান রাখিবে না মোহগর্ত্তে,

তাই লিখি দিল বিশ্ব-নিখিল দু বিঘার পরিবর্ত্তে!

সন্ন্যাসীবেশে ফিরি দেশে দেশে হইয়া সাধুর শিষ্য,

কত হেরিলাম মনোহর ধাম, কত মনোরম দৃশ্য।

ভূধরে সাগরে বিজনে নগরে যখন যেখানে ভ্রমি,

তবু নিশিদিনে ভূলিতে পারিনে সেই বিঘা দুই জমি!

হাটে মাঠে বাটে এই মত কাটে বছর পনেরো ষোলো,

একদিন শেষে ফিরিবারে দেশে বড়ই বাসনা হোলো।

নমোনমো নমঃ, সুন্দরী মম জননী বঙ্গভূমি!

গঙ্গার তীর স্নিগ্ধ সমীর জীবন জুড়ালে তুমি!

অবারিত মাঠ, গগন-ললাট চুমে তব পদ-ধূলি,

ছায়া-সুনিবিড় শান্তির নীড় ছোট ছোট গ্রামগুলি।

পল্লবঘন আম্রকানন, রাখালের খেলাগেহ।

স্তব্ধ অতল দীঘি-কালোজল, নিশীথশীতল স্নেহ।

বুকভরা মধু বঙ্গের বধূ জল লয়ে যায় ঘরে,

মা বলিতে প্রাণ করে অনচান, চখে আসে জল ভরে’।

দুই দিন পরে দ্বিতীয় প্রহরে প্রবেশিনু নিজগ্রামে।

কুমোরের বাড়ি দক্ষিণে ছাড়ি, রথ-তলা করি বামে

রাখি হাটখোলা নন্দীর গোলা, মন্দির করি পাছে

তৃষাতুর শেষে পঁহুছিনু এসে আমার বাড়ির কাছে।

ধিক্ ধিক ওরে, শতধিক্ তোর, নিলাজ কুলটা ভূমি!

যখনি যাহার তখনি তাহার, এই কি জননী তুমি!

সে কি মনে হবে একদিন যবে ছিলে দরিদ্র-মাতা,

আঁচল ভরিয়া রাখিতে ধরিয়া ফলফুল শাকপাতা!

আজ কোন্ রীতে কারে ভুলাইতে ধরেছ বিলাস-বেশ,

পাঁচরঙা পাতা অঞ্চলে গাঁথা, পুষ্পে খচিত কেশ!

আমি তোর লাগি ফিরেছি বিবাগী গৃহহারা সুখহীন,

তুই হেথা বসি ওরে রাক্ষসী হাসিয়া কাটাস্ দিন!

ধনীর আদরে গরব না ধরে!-এতই হয়েছ ভিন্ন

কোন খানে লেশ নাহি অবশেষ সে দিনের কোন চিহ্ন!

কল্যাণময়ী ছিলে তুমি অয়ি, ক্ষুধাহরা সুধারাশি;

যত হাস আজ, যত কর সাজ, ছিলে দেবী, হলে দাসী।

বিদীর্ণহিয়া ফিয়িয়া ফিরিয়া চারিদিকে চেয়ে দেখি;

প্রাচীরের কাছে এখনো যে আছে, সেই আম গাছ এ কি!

বসি তার তলে নয়নের জলে শান্ত হইল ব্যথা,

একে একে মনে উদিল স্মরণে বালক কালের কথা।

সেই মনে পড়ে জ্যৈষ্ঠের ঝড়ে রাত্রে নাহিক ঘুম,

অতি ভোরে উঠি তাড়াতাড়ি ছুটি আম কুড়াবার ধুম।

সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর, পাঠশালা-পলায়ন,—

ভাবিলাম হায় আর কি কোথায় ফিরে পাব সে জীবন!

সহসা বাতাস ফেলি গেল শ্বাস শাখা দুলাইয়া গাছে;

দুটি পাকা ফল লভিল ভূতল আমার কোলের কাছে।

ভাবিলাম মনে বুঝি এতখনে আমারে চিনিল মাতা!

হেনকালে হায় যমদূত প্রায় কোথা হতে এল মালী!

ঝুটি-বাঁধা উড়ে সপ্তম সুয়ে পাড়িতে লাগিল গালী।

কহিলাম তবে, “আমিত নীরবে দিয়েছি আমার সব,

দুটি ফল তার করি অধিকার, এত তারি কলরব”!

চিনিল না মোরে নিয়ে গেল ধরে’ কাঁধে তুলি লাঠিগাছ,

বাবু ছিপ হাতে পারিষদ সাথে ধরিতেছিলেন মাছ।

শুনি বিবরণ ক্রোধে তিনি কন্ “মারিয়া করিব খুন”!

বাবু যত বলে, পারিষদদলে বলে তার শতগুণ!

আমি কহিলাম, “শুধু দুটি আম ভীখ্‌ মাগি মহাশয়”!

বাবু কহে হেসে “বেটা সাধুবেশে পাকা চোর অতিশয়”!

আমি শুনে হাসি, আঁখিজলে ভাসি, এই ছিল মোর ঘটে!

তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে!

কবিতার বিস্তারিত

ভাব, তথ্য আর ব্যাখ্যা একসাথে

রবীন্দ্রনাথ এই কবিতায় জমিকে শুধু সম্পদ নয়, আত্মপরিচয় আর স্মৃতির জায়গা হিসেবে দেখিয়েছেন। গ্রামের জীবন, জমির অধিকার আর মানুষের ভেতরের টান এখানে গভীরভাবে উঠে আসে।

কবিতার মূল আবেগ, থিম আর ইন্টারনেটভিত্তিক তথ্য সহজ ভাষায় সাজানো হয়েছে, যাতে আপনি পড়তে, কপি করতে এবং প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করতে পারেন।

তথ্যসূত্র

শেয়ার কপি

দুই বিঘা জমি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কৃষকের জমির প্রতি ভালোবাসা আর শেকড় হারানোর বেদনা নিয়ে লেখা স্মরণীয় কবিতা।