Amar Gram: Smart Platform: অ্যাপটি ইনস্টল করুন এবং গ্রামের সাথে সংযুক্ত থাকুন। 🌟Install now 

গ্রামের নতুন গল্প, ছবি ও অনুভূতি জানার জন্য Amar Gram নিউজফিডে ফিরে আসুন।

mohammod maminul Islam

mohammod maminul Islam

Elahabad

public1 media

ভ্রমণ- কুমিল্লার এলাহাবাদের উটখাড়া মাজার।। মমিনুল ইসলাম মোল্লা,সাংবাদিক কলামিস্ট ও ভ্রমণ বিষয়ক লেখক, কুমিল্লা।। ভোরের নরম আলোয় আমি রওনা দিলাম দেবিদ্বারের এলাহাবাদ গ্রামের উট খাড়া মাজারের পথে—যেখানে আউলিয়ার পদচিহ্ন, মানুষের প্রার্থনা, আর ইতিহাসের স্তব্ধতা একসাথে কথা বলে। এই ভ্রমণ শুধু দেখা নয়; অনুভব, শ্রদ্ধা আর শিখবার এক সফর। কিভাবে যাবেন কুমিল্লা থেকে যাত্রা: কুমিল্লা শহর থেকে সিলেট মহাসড়ক ধরে উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ২৯ কিমি। রিকশা, সিএনজি বা ট্যাক্সি সুবিধাজনক। দেবিদ্বার সদর থেকে: পূর্ব-দক্ষিণে প্রায় ৭ কিমি। লোকাল অটো/সিএনজি সহজে পাওয়া যায়। ভ্রমণ সময়: সকাল ৮টা–১১টা সময়টা শান্ত, আর দুপুরের রোদ কম থাকায় মাজার এলাকা আরামে ঘোরা যায়। নেভিগেশন টিপস: কংশনগর বাসস্ট্যান্ড হয়ে ভাবেলা/এলাহাবাদ রোডে ঢুকুন; স্থানীয়দের কাছে “উট খাড়ার মাজার” বললে পথ দেখিয়ে দেবে। কোথায় থাকবেন কুমিল্লা শহরে হোটেল: মডারেট বাজেটের হোটেল/গেস্টহাউস প্রচুর—শহরে থাকা নিরাপদ ও সুবিধাজনক। দেবিদ্বারে লোকাল বাসস্থান: সাধারণ লজিং সীমিত। পরিবারের সাথে গেলে শহরে থাকা উত্তম। রাতযাপনের পরামর্শ: ধর্মীয় সফরের জন্য দিনভ্রমণ যথেষ্ট; সন্ধ্যার আগে শহরে ফিরে যান। কিভাবে খাবেন লোকাল খাবার: দেবিদ্বার বাজারে সাদাসিধে ভাত, সবজি, ডাল, মাছ—পরিষ্কার ও সাশ্রয়ী। পানি ও স্বাস্থ্য: নিজস্ব পানির বোতল রাখুন। মাজার এলাকায় খাবার খাওয়ার আগে পরিচ্ছন্ন জায়গা বেছে নিন। সম্মান রক্ষা: মাজার চত্বরে খাবার নিয়ে ঢোকা এড়িয়ে চলুন; খাওয়া-দাওয়া বাইরে সেরে নিন। কী দেখবেন উট খাড়া মাজার: শান্ত পরিবেশ, ৪১টি কবরের সারি, পুরোনো দীঘি—ইতিহাসের নীরবতা অনুভবযোগ্য। ভাবেলা গ্রাম: কাছেই শাহ ইসরাইল (রঃ) ও শাহ নুরুদ্দিন (রঃ)-এর মাজার—ত্রিপুরা-সময়কার ধারাবাহিকতার চিহ্ন। ওয়াকফের স্মৃতি: এককালে বৃহৎ ওয়াকফ জমির অংশ এখন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও পুকুরে ছড়িয়ে—সময়ের রূপান্তর দেখার জায়গা। ধর্মীয় গুরুত্বসহকারে আউলিয়াদের ধারাবাহিকতা: শাহ কামাল (রঃ), শাহ জামাল (রঃ), শাহ ইসরাফিল/ইসরাইল (রঃ), শাহ নুরুদ্দিন (রঃ)—শাহজালাল (রঃ)-এর পরবর্তী পর্যায়ের শিষ্যত্বে ইসলাম প্রচারের স্মারক এই এলাকা। উট খাড়া হওয়ার লোককথা: কথিত আছে—যেখানে বাহনের উট বালিতে পা গেঁথে খাড়া হয়ে দাঁড়িয়েছিল, সেই জায়গাই দাওয়াতের কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারিত হয়। এভাবেই এলাহাবাদে স্থায়ী বসতি ও দাওয়াত শুরু। আদব ও আচরণ: মাথায় কাপড়/টুপি, শালীন পোশাক, নারীদের জন্য সুবিধাজনক পর্দাপ্রথা; জিয়ারত শেষে দরিদ্রদের জন্য সদকা দিলে ভালো। স্টেপ বাই স্টেপ দিনভ্রমণ পরিকল্পনা ১. সকাল: কুমিল্লা থেকে সিএনজি/ট্যাক্সি—এলাহাবাদ উট খাড়া মাজারে পৌঁছে ওযু, দরুদ, ফাতিহা। ২. মধ্যাহ্ন: দীঘি ও পুরোনো পথ ঘুরে দেখুন; স্থানীয় প্রবীণদের কাছে ইতিহাস শুনুন। ৩. বিকেল: ভাবেলা গ্রামের মাজারদর্শন—সংক্ষিপ্ত জিয়ারত ও দোয়া। ৪. ফিরতি: দেবিদ্বার বাজারে হালকা খাবার—সন্ধ্যার আগে শহরে প্রত্যাবর্তন। ৫. সমাপ্তি: নোট নিন—তারিখ, নাম, লোককথা—পরে নথিবদ্ধ করুন। ভ্রমণ শেষে মনে হলো এই পথ শুধু স্থাপনা নয়; মানুষের দোয়া, স্মৃতি আর ধারাবাহিকতার পথ। আপনি গেলে শুনবেন—ইতিহাস এখানে এখনো ফিসফিস করে। লেখক পরিচিতি -মমিনুল ইসলাম মোল্লা,সাংবাদিক , কলামিস্ট ও ভ্রমণ বিষয়ক লেখক। কুমিল্লা।।

Post media
2 লাইক0 মন্তব্য
1 শেয়ার38 ভিউ