স্মৃতিতে শৈশবের ধান কাটা ও কিছু কথা রিপোর্টারের নাম: আপডেট টাইম Monday, May 18, 2026 17 দেখা হয়েছে মমিনুল ইসলাম মোল্লা: নব্বইয়ের দশকের শৈশব আজও মনে পড়লে গ্রামের সেই বৈশাখের ধান কাটার দিনগুলো চোখের সামনে ভেসে ওঠে। Debidwar উপজেলার প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের এলাহাবাদ গ্রামের জীবন তখন পুরোপুরি কৃষিনির্ভর ছিল। বৈশাখ মাস এলেই চারদিকে সোনালি ধানের সমারোহ দেখা যেত। আর সেই সঙ্গে শুরু হতো কৃষকদের ব্যস্ততা ও দুশ্চিন্তা। তখন স্কুল-কলেজে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি কমে যেত। ছেলে-মেয়েরা মা-বাবার সঙ্গে মাঠে যেত ধান কাটায় সাহায্য করতে। পরিবারের সবাই একটাই চিন্তায় থাকত—ঝড় বা বৃষ্টির আগে ধান কাটা শেষ করা যাবে তো? কারণ কৃষকদের আয়ের অন্য কোনো উৎস ছিল না। কোনো কারণে ধান নষ্ট হয়ে গেলে পুরো পরিবারকে সারা বছর কষ্টে থাকতে হতো। ধান কাটার সময় মাঠজুড়ে ছিল এক অন্যরকম পরিবেশ। সকাল থেকে আছর নামাজ পর্যন্ত কৃষি শ্রমিকরা কঠোর পরিশ্রম করতেন। জায়েদ আলি, শিলু মিয়া, আব্দুর রহিম ও শের আলীর মতো শ্রমিকরা মাত্র ত্রিশ টাকার বিনিময়ে দিনভর কাজ করতেন। বাইরের কোনো শ্রমিক পাওয়া যেত না বললেই চলে। গ্রামের মানুষই একে অপরের ভরসা ছিল। ধান কেটে বাড়িতে আনার পর উঠানে শুকানো হতো। কিন্তু গৃহস্থদের তখন এত কাজের চাপ থাকত যে আকাশে মেঘ জমছে কি না, সেটি খেয়াল করার সুযোগও কম ছিল। তাই মাঠে থাকা কৃষক-শ্রমিকরা দূর থেকে চিৎকার করে খবর দিতেন—“মেঘ আইতাছে!” তবে মানুষের চেয়েও দ্রুত সংবাদ দিত মাঠে ঘাস খাওয়া ছাগলগুলো। সামান্য বৃষ্টি শুরু হলেই তারা তীক্ষ্ণ স্বরে ডাকতে শুরু করত। সেই আওয়াজ শুনেই গৃহিণীরা দৌড়ে উঠানের ধান ঘরে তুলতেন। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে কৃষকদের ছিল নিজস্ব কৌশল। কেউ মাথায় “মাথাল” ব্যবহার করতেন। স্থানীয় ভাষায় “পাতলা” নামের এক ধরনের বৃষ্টিরোধকও ছিল। আবার কেউ বাঁশের বেত ও গাব পাতা দিয়ে তৈরি “জোংড়া” ব্যবহার করতেন। পরে ইউরিয়া সারের বড় পলিথিন কাগজ কোমরে দড়ি দিয়ে বেঁধেও অনেকে বৃষ্টি ঠেকানোর চেষ্টা করতেন। তখন ধান মাড়াইয়ের দৃশ্যও ছিল ভিন্নরকম। গরু দিয়ে ধান মাড়াই করা হতো। কখনও উঠানে পাটা ফেলে ধানের আঁটি পিটিয়ে গাছ থেকে ধান আলাদা করা হতো। সেই শব্দ, সেই কষ্ট, আর সেই মিলেমিশে কাজ করার দৃশ্য এখন শুধু স্মৃতিতেই রয়ে গেছে। আজ আধুনিক যন্ত্রের যুগে সেই দিনগুলো আর দেখা যায় না। তবু নব্বইয়ের দশকের বৈশাখ এলেই মনে পড়ে—ধানের গন্ধে ভরা সেই শৈশব, যেখানে কষ্ট ছিল, কিন্তু ছিল এক অদ্ভুত আনন্দ ও পারিবারিক বন্ধন। লেখক পরিচিতি -মমিনুল ইসলাম মোল্লা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও উইকি সংকলক, কুমিল্লা।।

mohammod maminul Islam
Elahabad
public1 media

ট্যাগ90sChildhood MemoriesVillage LifeNewsFarmingNeed InfoEmergency